Create an Account

Shopping cart

Close

No products in the cart.

March 12, 2020
Posted by

বাদাম আমাদের দেশে অত্যন্ত পরিচিত একটি ফল এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাবার। কিন্তু এই বাদাম শরীরের জন্য কতটা উপকারী তা খুব কম মানুষেই হয়ত জানেন। বাদামে রয়েছে প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিনের মতো , কাঠ বাদাম (আমন্ড) এবং কাজু বাদামে রয়েছে বিপুল পরিমাণ খাদ্য শক্তি। সব ধরনের বাদামেই এখন পাওয়া যায় আমাদের দেশে। তাই প্রতিদিন লবণ ছাড়া বাদাম খাবার অভ্যাস গড়ে তুললে আপনি থাকবেন সুস্থ ও ফিট।

আর আপনার খাদ্য তালিকায় কেন বাদাম রাখবেন, জেনে নিন তার কারণ–

* হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে বাদাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাদামে ওমেগা-৩ হার্ট ভালো রাখে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি দূর করে।

* বাদামে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এবং আয়রন আছে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং দৈহিক গঠন সুন্দর করে।

• বাদাম হাড় শক্ত করে এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। পাশাপাশি মৃত্যু ঝুঁকিও কমিয়ে আনে এটি।

* বাদাম মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং চিন্তা শক্তি বৃদ্ধি করে।

* গর্ভবতী নারীদের জন্য বাদাম অনেক উপকারী। এটি হবু মা এবং গর্ভের সন্তান উভয়ের সুস্বাস্থ্যের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

* বাদামে ভিটামিন আমাদের ত্বক মসৃণ রাখে এবং বয়সের ছাপ দূর করে। চোখের নীচের কালো দাগ দূর করতেও এর ভূমিকা রয়েছে।

*বাদাম খেলে লিভার ও কিডনি ভালো থাকে। এটি শ্বাসকষ্ট ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়তা করে।

* বাদামের ফাইবার রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে যা ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে।

* কোলন ক্যান্সারের আশঙ্কা কমে যায় বাদাম খেলে।

* যারা উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য বাদাম অনেক কার্যকরী। নিয়মিত কাঠ বাদাম (আমন্ড) খেলে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়।

তবে যাদের হজমে সমস্যা আছে তারা অবশ্যই হজম ক্ষমতা বুঝে বাদাম খাবেন। যে বাদাম খেলে গ্যাস, অ্যাসিডিটি বা অ্যালার্জির সমস্যা হয় সে বাদাম এড়িয়ে চলা উচিত।

বিভিন্ন ধরনের বাদাম রয়েছে। প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার ও তেলের জরুরি উৎস বাদাম। পুষ্টিগুণে ভরপুর এ খাবার হূদযন্ত্রকে রাখে সুস্থ। চিনিমুক্ত বাদামে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট। এর স্বাদ মনোহরী— পরিমিত পরিমাণে বাদাম খেলে সুস্থ থাকা সম্ভব।

অনেক রকমের বাদাম বিশ্বে উৎপাদিত হয়। সব বাদামই পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। জানা যাক বাদামের খাদ্য উপাদান ও গুণাগুণ সম্বন্ধে।

চিনাবাদাম
চিনাবাদামে প্রোটিন, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, আয়রন, সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ভিটামিন-এ, বি, সি রয়েছে।

চিনাবাদামের উপকারিতা
১. ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় দেখা গেছে, চিনাবাদাম অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ, যা ক্যানসার এবং হৃদযন্ত্রের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। নিয়ম মেনে প্রতিদিন পরিমাণমত বাদাম খেলে হার্ট সুস্থ্য থাকে।
২. চিনাবাদামে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি, যা দেহগঠনে সাহায্য করে।
৩. ডায়াবেটিসের ঝুঁকি রোধ করে।
৪. এতে উচ্চ পরিমাণে নিয়াসিন থাকে, যা দেহকোষ সুরক্ষা করে ।

৫ । নিয়মিত বাদাম খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

৬।বাদাম প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে।
৭।সকালে খালি পেটে বাদাম খান, দেখবেন শরীরে প্রচুর পরিমাণে এ্যানির্জ আসবে।

৮। চীনাবাদামকে গর্ভবতী নারীর জন্য খুব উপকারী বলে ঘোষণা করে ২০১৩ সালে পরিচালিত এক গবেষণায়। জার্নাল অব পেডিয়াট্রিতে প্রকাশিত প্রবন্ধে এ বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়। এ সময় চীনাবাদাম খেলে অনাগত শিশুর শরীরে তা প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায় বলে উল্লেখ করা হয়।

আখরোট
আখরোটে আছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাসিয়াম, ফসফরাস, সোডিয়াম, ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড ভিটামিন।

আখরোটের উপকারিতা
১। হাড়ের গঠন শক্ত ও মজবুত করে।
২। ব্রেনে পুষ্টি জোগায় বলে স্মৃতিশক্তি ভালো থাকে।

৩। এ বাদাম খেলে প্রোস্টেট ও ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে।

৪। শরীরের কর্মক্ষমতাও বাড়ে।

পেস্তা বাদাম

পেস্তা বাদামে আছে ফসফরাস, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, কপার, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন।

পেস্তা বাদামের উপকারিতা

১। এটি রক্ত শুদ্ধ করে।

২। লিভার ও কিডনি ভালো রাখে।

৩। পেস্তা বাদাম হূদযন্ত্র সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৪। শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উত্পাদন করে, যা ফুসফুসের ক্যান্সার রোধে কার্যকর।

আস্ত পেস্তা বাদাম যেমন খাওয়া যায়, তেমিন সালাদ বা অন্য খাবারেও এর ব্যবহার দেখা যায়।

কাজু বাদাম

কাজু বাদামে আছে আয়রন, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন-এ।

উপকারিতা
১। এটি রক্তশূণ্যতা কমিয়ে দেয়।
২। ত্বক উজ্জ্বল করে তথা চেহারার উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।
৩। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি করে দেয়।

৪। ২০১০ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, কাজু বাদাম ডায়াবেটিস রোগের প্রকোপ কমায়। রক্তে সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ প্রকারের বাদাম কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও চীনে কাজু বাদামের তৈরি বিভিন্ন খাবার বেশ সুস্বাদু এবং জনপ্রিয়।


আমন্ডকাঠবাদাম
আমন্ডকে বাদামের রাজা বলা হয়। আমন্ডে আছে ক্যালসিয়াম, ফাইবার, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ফলিক এসিড ও ভিটামিন ই।
আমন্ডের উপকারিতা
১। এটি শ্বাসকষ্ট, কোষ্ঠকাঠিন্য ও ত্বকের নানা সমস্যায় খুব ভালো। সব বাদামের মধ্যে আমন্ডে বেশি পরিমাণে ক্যালসিয়াম আছে।
২।নিয়মিত ৪-৫ টি আমন্ড খেলে এলডিএল কোলেস্টেরল বা ব্যাড কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়। ফলে হৃদরোগের আশঙ্কা থাকে না।
৩। কোলন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি খুব কম থাকে।
৪। আমন্ডতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে।
৫। আমন্ডের ফাইবার শরীরে কার্বোহাইড্রেট শোষণের গতি কমায়। ফলে ডায়াবেটিসের জন্য উপকারী।
৬। আমন্ড বাটা নিয়মিত লাগালে বলিরেখার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

৭। রক্তের চিনি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য রাখে।

৮। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

৯। কাঠবাদাম আমাদের মেধাশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

১০। এটি শরীরের ওজন বৃদ্ধি না করেই শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও শক্তি জোগায়। হজমশক্তি বাড়িয়ে কাঠবাদাম এ ভূমিকা পালন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to Top

Welcome to Cardiocare Pharmacy!

Enter your email and we will send you a coupon with 50% off your next order!